কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ছোট কাউনিয়ার চর এলাকায় আদালতের রায়ের পর বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে ১২ সদস্যের একটি পরিবার।
পরিবারটির দাবি, নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে কেনা জমিতে প্রায় ১৮ বছর ধরে বসবাস করলেও আদালতের রায় দেখিয়ে তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। গত ৩১ জুলাই উচ্ছেদের পর থেকে সড়কের পাশে অস্থায়ীভাবে তক্তা ও খেজুরপাতার পাটি বিছিয়ে আশ্রয় নিয়েছে পরিবারটি।
পরিবারের সদস্য কমলা খাতুন বলেন, ঘরবাড়ি, রান্নাঘর, টয়লেটসহ সবকিছু ফেলে বেরিয়ে আসতে হয়েছে। এখন বৃষ্টি-রোদে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে। ছোট শিশুদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন তারা।
সাহেব আলীর ভাষ্য, ২০০৮ ও ২০১২ সালে দুটি নিবন্ধিত কবলা দলিলের মাধ্যমে মোট ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ জমি কিনে সেখানে বসতঘর নির্মাণ করেছিলেন। এখন সেই ঘর ভেঙে দেওয়ায় প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। অন্য কোথাও তাদের কোনো জমি নেই বলেও জানান।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি ওই জমিতে বসবাস করছিল। আদালতের রায়ের ভিত্তিতে উচ্ছেদের পর তারা এখন রাস্তার পাশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও আদালতের রায়ের ভিত্তিতে উচ্ছেদ কার্যকর হয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত আব্দুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির জন্য দ্রুত মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ন্যাশনিক্স/এলকে
