বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদন। এতে বলা হয়েছে, দেশের ৩৮.৬ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য রাখেন না। এছাড়া ২০২৫ সালে প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ মাঝারি বা তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তার মধ্যে ছিলেন, যা দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
২১ জুলাই প্রকাশিত ‘বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির অবস্থা ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল, জাতিসংঘ শিশু তহবিল, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যৌথভাবে প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যকর খাবারের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য ক্রমেই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ২০১৭ সালে একজন মানুষের এক দিনের স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে গড়ে ৩ দশমিক ০৯ মার্কিন ডলার ব্যয় হতো। ২০২৫ সালে সেই ব্যয় বেড়ে ৪ দশমিক ৫৯ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ আট বছরে স্বাস্থ্যকর খাবারের দৈনিক খরচ প্রায় ৪৯ শতাংশ বেড়েছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা খাদ্য নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক পরিবার পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার কিনতে পারছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন পুষ্টিকর খাবারের অভাবে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং স্বল্প আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়ে যায়।
প্রতিবেদনে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং পুষ্টিকর খাদ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে খাদ্য অনিরাপত্তার দিক থেকে পাকিস্তানের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান উদ্বেগজনক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কার্যকর নীতি গ্রহণ, কৃষি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা বাড়ানোর মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলে মনে করছে জাতিসংঘ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সংকট এবং খাদ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছে জাতিসংঘ।
