দেশে সদ্য বিদায়ী জুন মাসে নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মাসজুড়ে মোট ৩৩৩ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এক বিবৃতিতে জানায়, সংগঠনের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদ ১৫টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে এ তথ্য সংগ্রহ করেছে। এতে দেখা যায়, নির্যাতনের শিকারদের মধ্যে ১৭৭ জন কন্যাশিশু এবং ১৫৬ জন নারী।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে ৭২ জন কন্যাশিশু ও ২৮ জন নারীসহ মোট ১০০ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২৪ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার, যাদের মধ্যে ১২ জনই কন্যাশিশু। এছাড়া ধর্ষণের পর ৭ জন কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়েছে এবং ধর্ষণের ঘটনায় একজন কন্যাশিশু আত্মহত্যা করেছে।
একই সময়ে ৩৪ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩১ জনই কন্যাশিশু। এছাড়া যৌন সহিংসতার বিভিন্ন ঘটনায় মোট ৪৩ জন ভুক্তভোগীর মধ্যে ২৭ জন কন্যাশিশু। এর মধ্যে ১১ জন যৌন নিপীড়নের, ২৯ জন উত্ত্যক্তকরণের এবং ৩ জন সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
হত্যার ঘটনাও ছিল উদ্বেগজনক। বিভিন্ন কারণে জুন মাসে ৫৪ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৯ জন কন্যাশিশু এবং ৪৫ জন নারী। এছাড়া ৪ জন নারী হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন।
সংগঠনটির তথ্যমতে, রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে ৩৩ জনের, যার মধ্যে ১২ জন কন্যাশিশু ও ২১ জন নারী। আত্মহত্যার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন, তাদের মধ্যে ৪ জন কন্যাশিশু। এছাড়া আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ রয়েছে ২টি ঘটনায়।
এছাড়া জুন মাসে ২ জন এসিডদগ্ধ নারী, ১ জন এসিডদগ্ধ কন্যাশিশু এবং ১ জন অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
যৌতুক-সংক্রান্ত সহিংসতায় ৫ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৪ জনকে যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতায় এক কন্যাশিশুসহ ৪ জন শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় ২ জন কন্যাশিশু ভুক্তভোগী হয়েছেন, যার মধ্যে একজনকে হত্যা করা হয়েছে।
এ ছাড়া জুন মাসে ৫ জন কন্যাশিশু অপহরণের শিকার হয়েছে এবং আরও ৫ জনকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। মানবপাচারের শিকার হয়েছে ২ জন কন্যাশিশু। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৯ জন, যার মধ্যে ৩ জন কন্যাশিশু। এছাড়া একটি বাল্যবিয়ের চেষ্টার ঘটনা এবং ২ জন কন্যাশিশুসহ মোট ৭ জনের বিভিন্নভাবে নির্যাতনের তথ্যও উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রয়োগ, দ্রুত বিচার এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
