আগামীকাল ২৩ জুন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশে নানা দলীয় কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। তবে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। আওয়ামী লীগের ঘোষিত কর্মসূচি ঠেকাতে বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দলটির নেতা-কর্মীদের দাবি, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন, পুলিশি অভিযান, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও হয়রানির ঘটনা বেড়ে গেছে। শুধু তাই নয়, ইতোমধ্যে পুলিশের অভিযানে একজন আওয়ামী লীগ নেতা নিহত হয়েছেন এবং পুলিশের হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে প্রাণ হারিয়েছেন ছাত্রলীগের এক নেতাও। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের প্রশ্ন—একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘিরে সরকারের এতটা তৎপরতা কেন? একটি দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় শক্তির এমন প্রদর্শন কি রাজনৈতিক সহনশীলতার পরিচয়, নাকি এটি ভিন্নমত দমনেরই বহিঃপ্রকাশ?
সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ মনে করছেন, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সরকারের এই কড়াকড়ি আসলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই বহিঃপ্রকাশ। তাদের ভাষ্য, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি পালনের অধিকার থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই মৌলিক রাজনৈতিক অধিকারই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমনে প্রশাসনকে ব্যবহার করা হলে তা সরকারের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বেরই ইঙ্গিত দেয়।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার, হুমকি এবং কর্মসূচি পালনে বাধা দেওয়ার খবর আসছে। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগ সমর্থকরা বলছেন, দলীয় কর্মসূচি দমন করে জনগণের সমর্থন থামানো যাবে না; বরং এতে সরকারের ভয় ও অনিরাপত্তাবোধই প্রকাশ পাচ্ছে।
২৩ জুনকে সামনে রেখে এখন বড় প্রশ্ন একটাই—আওয়ামী লীগের কর্মসূচি নিয়ে সরকারের এত ভয় কেন?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রশ্নের উত্তরই বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার অনেক অস্বস্তিকর সত্য সামনে এনে দিচ্ছে।
