দেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্তত ৯ জন জঙ্গি এখনো পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি জামিনে মুক্ত হয়ে আদালতে হাজিরা না দেওয়া এবং এখনো গ্রেপ্তার না হওয়া শতাধিক জঙ্গিকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ১ হাজার ৬১১ জন জঙ্গির নাম তালিকাভুক্ত রয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন সময়ে জামিনে মুক্তি পেয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১ হাজার ২৩১ জন জঙ্গি জামিনে কারাগার থেকে বের হয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত আরও ৩৮০ জন জামিন পেয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে জামিন পাওয়া ৩৮০ জনের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য। এদের মধ্যে ৭ জন আনসার আল ইসলাম, ৪ জন এবিটি, ৬৮ জন জেএমবি, ৬ জন নব্য-জেএমবি, ৬ জন হিযবুত তাহরীর, ৪ জন ইমাম মাহমুদের কাফেলা, ৪ জন হুজি, ১৫ জন জেএএফএইচএস এবং ২৬৫ জন অজ্ঞাত সংগঠনের সদস্য। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এদের মধ্যে ১১৪ জন জামিন পাওয়ার পর থেকে আর কখনো আদালতে হাজিরা দেয়নি।
অন্যদিকে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত অন্তত ৩৭০ জন জঙ্গি এখনো গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছে বলে জানা গেছে।
কারা সূত্রে জানা যায়, দেশের ১৬টি কারাগারে গত বছরের জুন পর্যন্ত ১৬২ জন জঙ্গি বন্দি রয়েছে। এদের মধ্যে ৩২ জন বিচারাধীন, ৫৯ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত, ৪৬ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এবং বাকি ২৫ জন অন্যান্য মামলায় আটক রয়েছে।
এছাড়া ২০২৪ সালের আগস্টে কারাগার ভেঙে পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিদের মধ্যে এখনো ৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পলাতকদের মধ্যে ৯ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান, যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেন, “আমরা তথ্য পেয়েছি, কাজ করছি।”
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জামিনে মুক্ত জঙ্গিদের কার্যকর নজরদারি এবং পলাতকদের দ্রুত গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
