দেশজুড়ে তীব্র গরম, ঘন ঘন লোডশেডিং এবং জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে মারাত্মক সংকটে পড়েছে পোলট্রি শিল্প। বিশেষ করে গ্রামীণ খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে খামারে প্রয়োজনীয় বাতাস ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে হিটস্ট্রোকে প্রতিদিনই মারা যাচ্ছে মুরগি। এতে ডিম ও মাংস উৎপাদন কমে গিয়ে খামারিরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছেন।
ময়মনসিংহের খামারিরা জানান, দিনে-রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় খামার পরিচালনা কঠিন হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ না থাকলে রাতে মুরগির বাচ্চা খাবার খায় না, আর দিনে তীব্র গরমে হাঁপিয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে হিটস্ট্রোকে মৃত্যু হচ্ছে। একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন গাজীপুরের খামারিরাও। সেখানে দিনে ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটর চালিয়েও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। উপরন্তু জ্বালানির সংকট ও অতিরিক্ত দাম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বরিশাল, রাজশাহী, নোয়াখালী, পাবনা, নারায়ণগঞ্জ ও যশোরসহ বিভিন্ন জেলায় খামারিদের একই অভিযোগ—লোডশেডিংয়ের কারণে খামারে পর্যাপ্ত বাতাস ও পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে মুরগি অসুস্থ হয়ে পড়ছে, ওজন কমে যাচ্ছে এবং মৃত্যুহার বাড়ছে। অনেক খামারি বাধ্য হয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই মুরগি বিক্রি করে দিচ্ছেন, ফলে লাভের পরিবর্তে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
রাজশাহীতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা বজায় রাখা না গেলে মুরগির উৎপাদন কমে যায় এবং রোগের ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে ডিম উৎপাদনও কমে যাচ্ছে। বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়লেও খামারিরা সেই সুবিধা পাচ্ছেন না।
খামারিরা বলছেন, আগে যেখানে বিদ্যুৎ খরচ ছিল সীমিত, এখন তা কয়েকগুণ বেড়েছে। জেনারেটর চালাতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে জ্বালানিও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদন খরচ বাড়লেও আয় কমে যাচ্ছে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় খামারে বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে পানি ছিটানোসহ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে তারা মনে করেন, এই খাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থাও প্রয়োজন।
খামারিদের আশঙ্কা, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে পোলট্রি শিল্প বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। এতে ডিম ও মাংসের সরবরাহ কমে গিয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে প্রোটিনের এই গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
ন্যাশনিক্স/এএএইচপি
