“দারিদ্র্যের জাদুকরের আমলে ৩০ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে

অবশ্যই পরুন

মোহাম্মদ ইউনুস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দারিদ্র্য, বিনিয়োগ, মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে ভিন্নমত সামনে এসেছে।

সমালোচকদের দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনৈতিক সংস্কার ও স্থিতিশীলতা আনতে বড় সুযোগ থাকলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য উদ্ধৃত করে কিছু বিশ্লেষক বলেছেন, এ সময়ে দেশে নতুন করে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন।

অর্থনৈতিক সূচক পর্যালোচনায় দেখা যায়, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ জিডিপির অনুপাতে কমেছে। সরকারি উন্নয়ন ব্যয়ের (এডিপি) বাস্তবায়ন হারও আগের বছরের তুলনায় নিম্নমুখী ছিল বলে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য থেকে জানা যায়। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির হার ও মজুরি বৃদ্ধির হারের ব্যবধান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

তবে অন্যদিকে, দায়িত্বের শেষ পর্যায়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং প্রবাসী আয় বৃদ্ধির বিষয়টি ইতিবাচক অর্জন হিসেবে তুলে ধরা হয়। সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, রিজার্ভ প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায় এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে আসে।

সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে একাধিক কমিশন গঠন করা হলেও সেসব সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রশাসনিক, বিচারিক ও নির্বাচনি সংস্কারসহ বিভিন্ন খাতে কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

ড. ইউনূস আন্তর্জাতিকভাবে ‘থ্রি জিরো’ শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ ধারণার প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত। দায়িত্বকালীন সময়ে এসব লক্ষ্য অর্জনে অগ্রগতি নিয়ে মূল্যায়ন এখনো চলমান।

অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল ছিল রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যবর্তী একটি চ্যালেঞ্জপূর্ণ অধ্যায়। এর পূর্ণাঙ্গ প্রভাব মূল্যায়নে আরও সময় ও গবেষণা 

ন্যাশনিক্স/এলকে

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ