মধু কেলেঙ্কারিতে চাকরিচ্যুত হন বর্তমান চীফ জাস্টিস জুবায়ের রহমান চৌধুরীর বাবা

অবশ্যই পরুন

বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ‘বঙ্গবন্ধু’ ও ‘জাতির পিতা’ উপাধী ছাত্রলীগের উপহার। রাজশাহীর নঈমউদ্দীন আহমেদকে আহ্বায়ক করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট ‘আহবায়ক কমিটি’ গঠনের মাধ্যমে পূর্বপাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সেই ১৫ জন সদস্যের মাঝে বঙ্গবন্ধুর সাথে প্রথম সদস্য ছিলেন বরিশালের আব্দুর রহমান চৌধুরী।

১৯৭২ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আব্দুর রহমান চৌধুরীকে বাংলাদেশ হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। তিনি ১৯৮৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই পদে বহাল ছিলেন। তবে ব্যত্যয় ঘটে ১৯৮৩ সালেই।

তৎকালীন বিভাগীয় হাইকোর্টের নিয়ম অনুসারে বিচারপতি রহমান যশোরে চাকরিরত ছিলেন। ওই সময় উক্ত কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলসহ জুডিশিয়াল অফিসার ও কর্মচারীরা মিলে সুন্দরবনে বনভোজনের আয়োজন করেন। এ উপলক্ষে প্রত্যেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা প্রদান করেন। বনভোজন শেষে ফেরার সময় কম-বেশি সবাই সুন্দরবনের খাঁটি মধু সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন।

তৎকালীন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) জনাব মোয়াজ্জেম হোসেন একটি মধুর বোতল নিয়ে এসে কোর্টরুমের এক কোণায় ২/৩ দিন রেখে দেন। বিষয়টি নজরে এলে বিচারপতি রহমান কর্তব্যরত পিওনকে মধুর বোতলের মালিকানা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। নিশ্চিত হওয়ার পর যে মধুটি ডিএজি মোয়াজ্জেম হোসেনের, তিনি বিনা অনুমতিতে মধুর বোতলটি নিজের রুমে এনে সামান্য চেখে দেখেন।

এ ঘটনা জানতে পেরে ডিএজি মহোদয় আর সেই মধু গ্রহণ করেননি। বরং তিনি ঢাকায় ফিরে বিষয়টি মাননীয় প্রধান বিচারপতির কাছে অভিযোগ আকারে উপস্থাপন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ১৯৮৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিচারপতি আব্দুর রহমান চৌধুরী, যিনি বর্তমান প্রধান বিচারপতি শ্রদ্ধেয় জনাব জোবায়ের রহমান চৌধুরী সাহেবের পিতা, চাকরিচ্যুত হন।

পরবর্তীতে বিচারপতি রহমান ডিএজির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি আপিল বিভাগ পর্যন্ত শুনানি শেষে 35 DLR HC 266 এবং 35 DLR AD 290 হিসেবে রেফারেন্সে স্থান পায়। একই ডিএলআরে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ও সন্নিবেশিত হয়।

এই ঘটনার পর বহুল প্রচলিত শব্দ “Honey Trip” পরিবর্তিত হয়ে “Honey Trap” হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ