প্রায় ৫ কোটির বেশি বই এখনও বিতরণ বাকি

অবশ্যই পরুন

চলতি জানুয়ারিতে মোট পাঠ্যপুস্তকের প্রায় ৮৩ শতাংশ বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী পনেরো জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই বিতরণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে এ বছর বই উৎসব আয়োজন করা হয়নি বলে জানানো হলেও বাস্তবে গত বছরও সরকারিভাবে বই উৎসব হয়নি। কর্তৃপক্ষের দাবি, দরপত্র প্রক্রিয়ায় কিছুটা দেরি হলেও চলতি মাসের মধ্যেই সব শিক্ষার্থী বই পাবে।


তবে সরকারের প্রেস সচিবের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের তথ্যের মধ্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড এর সদস্য পাঠ্যপুস্তক ড. রিয়াদ চৌধুরী জানিয়েছেন, মাধ্যমিক পর্যায়ের সাধারণ মাদ্রাসা ও কারিগরি এই তিন ধারায় মোট ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৪০ হাজার ৯২৭টি বইয়ের মধ্যে বিতরণ হয়েছে মাত্র ৩ কোটি ১৪ লাখ, যা শতকরা ৭১ দশমিক ৭৬ ভাগ। অন্যদিকে এনসিটিবির বিতরণ শাখার তথ্যে বলা হচ্ছে, ৭৫ শতাংশের বেশি বই ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।


জেলা পর্যায়ের চিত্র আরও ভিন্ন। বগুড়ার জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী জানান, ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সব বিষয়ের বই পেলেও সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখনো সব বই পায়নি। এ দুই শ্রেণিতে আংশিক বই বিতরণ হয়েছে।


কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যে দেখা যায়, ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির জন্য প্রয়োজনীয় ১৫ লাখ ৭২ হাজার ৪৯০টি বইয়ের বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ৯ লাখ ১ হাজার ৮৩৬টি, যা মোট চাহিদার ৬০ শতাংশ। ময়মনসিংহে মাধ্যমিক পর্যায়ে ৬৫ লাখ ৫ হাজার ৮০৯টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া গেছে ৩৯ লাখ ১ হাজার ৫৮৯টি, এখানেও সরবরাহের হার প্রায় ৬০ শতাংশ।


নওগাঁ জেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস জানায়, মাধ্যমিক পর্যায়ের ১৬ লাখ ৯৭ হাজার ৪২৬টি বইয়ের বিপরীতে বিতরণ হয়েছে ১২ লাখ ৩৫ হাজার ১৫টি। অর্থাৎ এখনও প্রায় ২৬ শতাংশ বই মাঠপর্যায়ে পৌঁছেনি। সিলেট বিভাগে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সেখানে মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় ৩১ শতাংশ বই এখনো সরবরাহ করা হয়নি এবং প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থী নতুন বই ছাড়া ক্লাসে অংশ নিচ্ছে।


তবে প্রধান উপদেষ্টার উপ প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার দাবি করেছেন, সরকার বই বিতরণে অনেকাংশেই সফল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম দিনেই নবম শ্রেণির ৮৬ শতাংশ, ষষ্ঠ শ্রেণির ৮২ শতাংশ, সপ্তম শ্রেণির ৬৩ শতাংশ এবং অষ্টম শ্রেণির ৫২ শতাংশ বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছেছে। যেসব শিক্ষার্থী এখনো বই পায়নি, তারা পাঠ্যপুস্তকের পিডিএফ কপি ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে পড়াশোনা করতে পারবে বলে তিনি জানান।

ন্যাশনিক্স/এলকে

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ