লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ আতিক হাসান নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। তার বয়স পঁচিশ বছর। শনিবার সাতাশ ডিসেম্বর ভোরে পাটগ্রাম উপজেলার পঁয়ষট্টিবাড়ি বিওপির একটি টহল দল তাকে আটক করে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোরে সীমান্তের মেইন পিলার আট চার ছয় সংলগ্ন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আউলিয়ার হাট এলাকায় কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির উপস্থিতি টের পেয়ে তিস্তা ব্যাটালিয়নের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ একষট্টি বিজিবির একটি টহল দল অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ধাওয়া করে আতিক হাসানকে আটক করা হলেও তার সঙ্গে থাকা আরও দুইজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
আটকের সময় আতিক হাসানের কাছ থেকে দুই ফুট চার ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের একটি দেশীয় ধারালো ছুরি এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, শ্রীরামপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে চোরাচালান কার্যক্রমে জড়িত থাকার সময় তিনি বিজিবির হাতে আটক হন।
আটক আতিক হাসান পাটগ্রামের সীমান্তপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মো. বজলার রহমানের ছেলে। অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া অন্য দুইজন হলেন মো. জুলফিকার আলী বয়স পঁয়ত্রিশ বছর এবং মো. রহিদুল বয়স বিয়াল্লিশ বছর। বিজিবি জানিয়েছে, পলাতক দুই ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আটকের পর আতিক হাসানের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আলোচনা শুরু হলে বিষয়টি স্পষ্ট করেন পাটগ্রাম পৌর শাখার আমির সোহেল রানা। তিনি জানান, আতিক হাসান একসময় ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দুই হাজার বাইশ সালে তাকে পাটগ্রাম পশ্চিম শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বর্তমানে সংগঠনের সঙ্গে তার কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই।
এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক জানান, বিজিবি বাদী হয়ে আতিক হাসানের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে এবং তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে লালমনিরহাট জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
