অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি জানান, হিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়’ করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে নারীশিক্ষা, নারী অধিকার, মানবাধিকার ও নারী জাগরণে বিশেষ অবদান রাখা চারজন বিশিষ্ট নারীকে রোকেয়া পদক প্রদান করা হয়। পদকপ্রাপ্তরা হলেন
রুভানা রাকিব (নারীশিক্ষা-গবেষণা)
কল্পনা আক্তার (নারী অধিকার-শ্রম অধিকার)
ঋতুপর্ণা চাকমা (নারী জাগরণ-ক্রীড়া)
নাবিলা ইদ্রিস (মানবাধিকার)
ড. ইউনূস বলেন, “নারীদের সামনে রেখেই নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠুক।” তিনি উল্লেখ করেন, বেগম রোকেয়া শত বছর আগে যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, আজো তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, “১০০ বছর পার হয়ে গেলেও আরেকজন রোকেয়া সৃষ্টি করতে পারিনি—এটাই আমাদের ব্যর্থতা।”
নারীর পরিচয় ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, সমাজে নারীদের এখনো ‘অমুকের মা’, ‘অমুকের স্ত্রী’ হিসেবেই দেখা হয়। নিজের নামেই নারীর পরিচয় প্রতিষ্ঠা করার উপর গুরুত্ব দেন প্রধান উপদেষ্টা।
বাংলাদেশে শিক্ষাক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এখন বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েদের উপস্থিতি বেড়েছে। তবে অবকাঠামো ও আবাসনের ক্ষেত্রে মেয়েদের প্রতি বৈষম্য এখনো রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গণঅভ্যুত্থানে নারীদের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, “অভ্যুত্থান-পরবর্তী এই নতুন নারী সমাজ বাংলাদেশের নতুন যাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে। তাই নারীদের সামনে রেখেই উন্নয়নের পথ তৈরি করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতি ছিলেন নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ, আর স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ।
ন্যাশনিক্স/এজে
