গাইবান্ধায় এগারো মাসে ১৭০ ধর্ষণ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন

অবশ্যই পরুন

গাইবান্ধায় নারী ও শিশু ধর্ষণের যে পরিসংখ্যান বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ধর্ষণের মতো অপরাধ দেশে বাড়ছে এটি আর নতুন কিছু নয়। একটি জেলায় একটি ঘটনাও হতবাক করার মতো সেখানে গাইবান্ধায় এক বছরের কম সময়ে ১৭০ নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হওয়া প্রমাণ করে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। গত বছরের তুলনায় সংখ্যাটি আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় বোঝা যায় অবস্থার অবনতি ঘটছে উন্নতি নয়।

এই বাস্তবতায় এলাকাবাসী বিশেষ করে কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। কিন্তু সত্য হলো ধর্ষণের শিকার শিশু থেকে বৃদ্ধা কেউই নিরাপদ নন। প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে সাদুল্লাপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী এবং পরের দিন একই উপজেলার ৭৫ বছর বয়সী এক নারী ধর্ষণের শিকার হন। পুলিশ অনেক ক্ষেত্রে গ্রেপ্তারের কথা বললেও বহু অপরাধী এখনো ধরা পড়েনি।

এ পরিসংখ্যান কেবল একটি জেলার ভয়াবহ অবস্থাই দেখায় না বরং সারা দেশেই নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের প্রবণতা যে বিদ্যমান তা স্পষ্ট। আমাদের দেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ ঘটনায় মামলা হয় না। মামলা হলেও বিচার দীর্ঘসূত্রতায় জট পাকিয়ে যায়। বহুদিন ধরেই দ্রুত বিচার ও কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি থাকলেও এর বাস্তবায়ন সন্তোষজনক নয়।

আইনে বলা হয়েছে ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার তদন্ত ৩০ দিনের মধ্যে এবং বিচার ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে। নতুন প্রস্তাবে তদন্ত ১৫ দিনের মধ্যে এবং বিচার ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আইন করলেই হবে না এর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে শক্ত পদক্ষেপ প্রয়োজন। শিশু ধর্ষণের বিচার দ্রুত সম্পন্নে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পরিকল্পনাও বিবেচনায় আছে যা ইতিবাচক উদ্যোগ।

ধর্ষণের আইনি সংজ্ঞায় পরিবর্তন এবং বিশেষ ক্ষেত্রে ডিএনএ রিপোর্টের অপেক্ষায় না থেকে পরিস্থিতিগত সাক্ষ্যে রায় দেওয়ার সুযোগও আইনগত অগ্রগতি। কিন্তু আট মাস পরে এ আইনের বাস্তবায়ন কতটা হয়েছে সেটি প্রশ্নসাপেক্ষ। দ্রুত বিচার এবং শাস্তির বাস্তব উদাহরণ তৈরি হলে ধর্ষণ কমাতে তা অবশ্যই ভূমিকা রাখবে।

গাইবান্ধার ঘটনা দেখিয়ে দেয় আইন শুধু যথেষ্ট নয় পরিবার সমাজ ও সকল স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ অত্যাবশ্যক। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধর্ষণ ঘটে পরিচিতজন বা নিকট আত্মীয়ের হাতে। তাই অভিভাবকদের সচেতনতা সন্তানদের নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ববোধ অপরিহার্য।

গাইবান্ধার ঘটনা সমগ্র দেশের জন্য সতর্ক সংকেত। আইন প্রয়োগ নিশ্চিতকরণ পরিবার ও সমাজে নৈতিকতা শিক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির দিকে নজর দিতে হবে। সরকারের প্রণীত নতুন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলেই এই অপরাধ কমানো সম্ভব হতে পারে।

ন্যাশনিক্স/এজে

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ