গত এক বছরে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ আরও আড়াই লাখ কোটি টাকা বেড়েছে। অর্থ বিভাগের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট সরকারি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আদায় কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না বাড়া, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, বিনিয়োগে ধীরগতি এবং উন্নয়ন প্রকল্পে স্থবিরতা এসব কারণে সরকারকে বেশি পরিমাণ ঋণ নিতে হচ্ছে। সর্বমোট ঋণের মধ্যে বৈদেশিক ঋণ প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ ঋণ ১২ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি।
এডিবির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশেই বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধির হার সবচেয়ে দ্রুত। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ মেগা প্রকল্পের অর্থায়ন এবং বাজেট সহায়তাই ঋণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। এদিকে সরকারও বলছে, ভবিষ্যতের চাপ বিবেচনায় এখন ঋণ গ্রহণে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞেরা মন্তব্য করেছেন ঋণের পরিমাণ জিডিপির তুলনায় উদ্বেগজনক না হলেও অর্থের সঠিক ব্যবহার ও সুদ পরিশোধের সক্ষমতাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বুলেটিনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত মোট ঋণ জিডিপির ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। তবে সুদ পরিশোধের চাপও দ্রুত বাড়ছে। গত অর্থবছরে সরকার সুদ হিসেবে পরিশোধ করেছে ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা এক বছরে ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, রাজস্ব আয়, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বাড়ানো এবং ডলারের বাজার স্থিতিশীল করতে না পারলে আগামী কয়েক বছর ঋণের চাপ আরও বাড়তে পারে।
ন্যাশনিক্স/এজে
