আগামী ১৩ নভেম্বরের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঘোষিত লকডাউন কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে আজ (১০ নভেম্বর) সারা দেশে দল ও তার অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিলে অংশ নেওয়া হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, এই কর্মসূচি বাতিল করে দেয়ার দাবি জানিয়ে তারা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে।
আওয়ামী লীগ সূত্রে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতা পরিবর্তনের পর সরকার একটি নির্বাহী আদেশে দলের সকল কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়; পরবর্তী সময়ে দলের প্রায় দুই শতাধিক সংসদ সদস্য গ্রেফতার হন এবং লক্ষাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার এ হুমকি নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে এর প্রেক্ষিতে দল নিয়মিতভাবে ঝটিকা বিক্ষোভ ও মিছিল চালিয়ে যাচ্ছে।
আজকের কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে বেশ কয়েকটা ঘটনাও ঘটেছে বলে সংবাদ সূত্রে জানা গেছে। ঢাকাসহ কয়েকটি জায়গায় বাসে আগুন লাগার ঘটনা এবং কয়েক দিনের মধ্যে একটি গির্জায় ককটেল বিস্ফোরণের সংবাদ পাওয়া গেছে। এমন ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে বিশ্লেষক ও আওয়ামী লীগ নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, সরকার এই ধরনের ঘটনাগুলো সাজিয়ে দলকে দায়ী করে কর্মসূচি ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।
আওয়ামী লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, “গত এক বছরের বেশি সময় ধরে আমরা সরকারের পতনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছি। আমাদের অনেক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, কয়েক’শকে মব করে খুন করা হয়েছে, লাখ লাখ ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। তবু আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছি। হঠাৎ বাসে আগুন লাগানো ও ককটেল নিক্ষেপের মতো ঘটনা আমরা সরকারের রচনায় ভণ্ডামি মনে করছি। এই ঘটনা গুলো নিছক সরকারের সাজানো নাটক জনগনের জানমালে আগুন দিয়ে দায়বার আমাদের উপর দেওয়ার চেষ্টা চলছে।আমরা স্পষ্ট জানাচ্ছি, এসব সহিংসতার সঙ্গে আমরা যুক্ত নই। অতীতে এমন সহিংসতার জন্য আমরা জামায়াত বিএনপিকেই অভিযুক্ত দেখেছি।
পুলিশ, সরকারের পক্ষ বা যুক্ত প্রতিরোধকারী অন্য কোনো গোষ্ঠীর তরফ থেকে এই ঘটনার কারণ বা দায় নেওয়ার বিষয়ে তৎক্ষণাত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি মেলেনি।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সামাজিক অস্থিরতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও নারী-পুরুষ সবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ওই বিশ্লেষকরা মনে করান যে, কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করা হলে তা শান্তিপূর্ণ ও আইনী পথে হওয়া উচিত; নিরপরাধ সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তদন্ত করে ফলপ্রসূ তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
ন্যাশনিক্স একেএ
