বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র এবং প্রধানমন্ত্রী আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় সতর্ক করে বলেছেন আওয়ামী লীগকে নিষ্ক্রিয় করে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের যে চেষ্টা চলছে, তা দেশকে আরও গভীর রাজনৈতিক সঙ্কটে ঠেলে দেবে। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে হলে সেই নির্বাচন হবে “ভাওতাবাজি ও প্রহসন”যা জনগণ বা আন্তর্জাতিক মহল কোনোভাবেই স্বীকৃতি দেবে না।
সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জয় বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে এবং দলটিকে নির্বাচনী প্রস্তুতির যথেষ্ট সময় দিতে হবে। শেষ মুহূর্তে অনুমতি দেওয়া হলে নির্বাচনটি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিচার ও আইনশৃঙ্খলার নামে আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক প্রতিশোধ চাপিয়ে দিচ্ছে। গ্রেপ্তার, মামলার হুমকি এবং অফিস বন্ধ করার মাধ্যমে দলটিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চক্রান্ত চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জয় বলেন, “বাংলাদেশে যা ঘটছে তা আসলে আমার মা এবং আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেওয়ার এক ভয়ংকর প্রয়াস। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া জরুরি।”
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাবন্দি এবং গত এক বছরে শতাধিক নেতাকর্মী হত্যার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। একই সাথে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বৃদ্ধির উদ্বেগও প্রকাশ করেন।
জয় সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হলে উগ্র ইসলামপন্থী শক্তিগুলোই লাভবান হবে এবং বাংলাদেশ আরও অস্থির হবে। তাঁর অভিযোগ বর্তমান সরকার জামায়াতে ইসলামি ও চরমপন্থীদের পুনরুত্থান ত্বরান্বিত করছে।
আন্তর্জাতিকভাবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার জন্য এবং একটি স্বাধীন, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে দ্রুত রাজনৈতিক বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
