এমপি নেই, তবুও শতকোটি বাড়ছে এমপি প্রকল্পের ব্যয়

অবশ্যই পরুন

এমপি নেই, তবুও শতকোটি বাড়ছে এমপি প্রকল্পের ব্যয় আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংসদ সদস্যদের নিজ এলাকায় উন্নয়নকাজের জন্য নেয়া হয়েছিল ‘সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন–২’ প্রকল্প, যা সাধারণভাবে ‘এমপি প্রকল্প’ নামে পরিচিত। বর্তমানে কোনো সংসদ সদস্য না থাকলেও প্রকল্পটির ব্যয় হঠাৎ ৩৯ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

প্রকল্পটি অনুমোদন পায় ২০২২ সালে, মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২৬ সাল পর্যন্ত। শুরুতে বরাদ্দ ছিল এক হাজার ৮২ কোটি টাকা, যা এখন ৪১৮ কোটি টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৫০০ কোটি করার প্রস্তাব করা হয়েছে, অর্থাৎ মোট ব্যয় বাড়ছে প্রায় ৩৯ শতাংশ।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সিদ্ধান্ত হয়েছিল—যেসব কাজ প্রায় শেষ, সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা হবে, আর অসমাপ্ত বা দরপত্রবিহীন কাজ বাতিল করা হবে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন না করে উল্টো ব্যয় ও সময় দুই-ই বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলমান কাজ শেষ করলেই প্রকল্পটি শেষ করা সম্ভব ছিল। তবুও ব্যয় বাড়িয়ে নতুন প্রস্তাব তোলা হয়েছে, যা প্রশ্ন তৈরি করেছে।

প্রকল্পের সাবেক পরিচালক নাজমুল করিমের ব্যাখ্যা—“স্থানীয় চাহিদার কারণে” ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এলজিইডি জানিয়েছে, পর্যাপ্ত বার্ষিক বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজের অগ্রগতি প্রত্যাশিত হয়নি; তাই মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন প্রস্তাবে দেখা গেছে, সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায় ৫১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, আর সর্বনিম্ন মেহেরপুরে—পাঁচ কোটি টাকা। এই বৈষম্য নিয়েও কমিশনের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

এর আগে পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সদস্য ড. নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া মন্তব্য করেছিলেন—এই প্রকল্পের আওতায় নতুন কোনো স্কিম আর অনুমোদন করা উচিত নয়।

ন্যাশনিক্স/এজে

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ