জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলোচিত বক্তব্য ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে ওই বক্তব্যকে মিলিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে মেতেছেন অনেকে।
রোববার রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। নতুন দামে ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের আর্থিক চাপ কমানো এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তবে জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় ২০ টাকা বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। তাদের আশঙ্কা, জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে পরিবহন ব্যয় বাড়বে এবং এর প্রভাব পড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য সেবার দামে।
দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষোভ ও বিক্ষোভের খবরও পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও বিক্ষুব্ধ মানুষের সঙ্গে পেট্রল পাম্প কর্তৃপক্ষের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এসব ঘটনার সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য ও প্রচারণা দেখা যাচ্ছে। তেলের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে কেউ কেউ প্রশ্ন করছেন, “এই বুঝি সেই আই হ্যাভ আ প্ল্যান?”
আবার অনেকে ব্যঙ্গ করে বলছেন, জনগণের ওপর জ্বালানি তেলের বাড়তি দামের চাপই কি তাহলে সেই কথিত পরিকল্পনার অংশ?
