দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন!

অবশ্যই পরুন

দেশে একের পর এক হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতার ঘটনায় জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ দাবি করলেও গুরুতর অপরাধের বিভিন্ন ঘটনা এবং এ নিয়ে নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক মহলের উদ্বেগ সরকারের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ সদর দপ্তরের সংকলিত পরিসংখ্যানে হত্যা, অপহরণ ও নারী নির্যাতনসহ কয়েকটি অপরাধ কমেছে।

তবে একই সময়ে গুরুতর অপরাধের ধারাবাহিক ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গত এপ্রিল মাসে সংসদে দেওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ৪৬৪টি হত্যা মামলা ও ৬৬৬টি ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে উঠেছে শিশু ও নারীর নিরাপত্তা। শিশুদের ধর্ষণ, হত্যা ও অপহরণের মতো ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় দ্রুত গ্রেপ্তার হলেও প্রশ্ন উঠছে অপরাধ সংঘটনের আগেই সেগুলো প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা কতটা কার্যকর হচ্ছে।

জুনে সংসদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা টিআইবির তথ্য উদ্ধৃত করে মার্চ ও এপ্রিল মাসে ৬০৫টি হত্যা, ১৯৬টি অপহরণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন।

একদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে’ দাবি, অন্যদিকে ধারাবাহিক গুরুতর অপরাধের ঘটনা এই দুই বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা ও প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সরকারের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, পরিসংখ্যানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার জায়গাতেও আস্থা তৈরি করা।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ