পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাওনিয়ার বেজে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বায়েকের সার্ভার রুমসহ আশপাশের কয়েকটি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে কম্পিউটার, এসি, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর পাওনিয়ার বেজসহ আশপাশের দুটি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনায় ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় ৪৩ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্তও প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনায় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
সূত্র জানায়, সোমবার রাত ৩টার দিকে বায়েকের পাওনিয়ার বেজের সার্ভার রুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ও ধোঁয়া আশপাশের কয়েকটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিকাণ্ডের পর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) পাশাপাশি বায়েকের বিভিন্ন কার্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। কাস্টমস ভবন ও ক্যান্টিনেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় এসব স্থাপনায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ ও পানির সংকটে প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাদেকুল বারী জানান, খবর পাওয়ার পর তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
রূপপুর গ্রিনসিটি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আগুনে বায়েকের কার্যালয়ের কম্পিউটার, এসি, নথিপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
সার্ভার রুমে আগুন লাগার কারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, নথি ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়ছে।
অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে প্রকল্প পরিচালক ড. কবীর হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ন্যাশনিক্স/এলকে
