বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী ও মৌলবাদী শক্তির উত্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর আশঙ্কা, দেশের বর্তমান অস্থিরতা ও উগ্রপন্থী শক্তির বিস্তার শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলবে না, এর প্রভাব প্রতিবেশী ভারতেও পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদীদের উত্থানের খেসারত ভারতকেও দিতে হতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে যদি জঙ্গিবাদী ও মৌলবাদী শক্তি আরও সংগঠিত হয়, তাহলে তার প্রভাব দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশেষ করে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ সীমান্ত এবং দুই দেশের ভৌগোলিক ও সামাজিক যোগাযোগের কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি ভারতের নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
শেখ হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক শান্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বাংলাদেশে উগ্রবাদী শক্তির বিস্তার ঘটলে সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃদেশীয় অপরাধ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা—সব ক্ষেত্রেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়; দুই দেশের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্বার্থও পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
শেখ হাসিনার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
তাঁর সতর্কবার্তার মূল বক্তব্য হলো—বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী শক্তির বিস্তার ঘটলে তার নিরাপত্তাগত অভিঘাত সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের ওপরও পড়তে পারে। ফলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বজায় রাখা জরুরি।
