চলতি বছর বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। এই বাড়তি ব্যয় দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে টাকার ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা জিরো কার্বন অ্যানালিটিকসের (জেডসিএ) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ব্যয় আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়তে পারে। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ দেশের মোট বাণিজ্য ঘাটতির প্রায় ১০ শতাংশের সমান হতে পারে।
জেডসিএর হিসাব বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির বর্তমান মূল্য অব্যাহত থাকলে আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতাও কিছুটা কমে যেতে পারে। বর্তমানে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ৫ দশমিক ৭ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব, তা কমে প্রায় ৫ দশমিক ২ মাসে নেমে আসতে পারে।
গবেষণা সংস্থাটির বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, জ্বালানি আমদানিতে যে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হতে পারে, সেই অর্থ দিয়ে দেশে প্রায় ৮ গিগাওয়াট ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা সম্ভব। এই সম্ভাব্য সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা দেশের বর্তমান প্রায় ৩২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশের সমান।
বিশ্লেষকদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানিনির্ভরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব পড়ে। তাই জ্বালানি ব্যয়ের চাপ কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো হলে দীর্ঘমেয়াদে আমদানি নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ন্যাশনিক্স/এলকে
