ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রথম টেলিফোন সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্ষমতায় ফেরার জন্য নয়, দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতেই তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চান। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই তিনি নিজ উদ্যোগে দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
ভারতের সংবাদমাধ্যম Hindustan Times-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে তার প্রত্যর্পণ ইস্যু এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকে ঘিরে সাম্প্রতিক আলোচনা নিয়েও কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, তার প্রত্যর্পণকে তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সঙ্গে যুক্ত করা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক একটি ফোরামে বাংলাদেশ নিয়ে বক্তব্য দেওয়া কীভাবে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে, তা তার বোধগম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান ২০০৭ সালে বাংলাদেশ ছাড়ার সময় রাজনীতি না করার বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকার করেছিলেন। পরে লন্ডনে অবস্থান করেও তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন এবং তার মা খালেদা জিয়ার পরিবর্তে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও দলীয় সভায় অংশ নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তুলে বলেন, তারেক রহমান লন্ডন থেকে এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার সময় তিনি কখনো ব্রিটিশ সরকারের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি। তাহলে তার বিরুদ্ধে এখন কেন এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য, দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট, সারের ঘাটতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মতো সমস্যা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চীনের সঙ্গে ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জন্য একটি স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, ভারতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এমন একটি বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে নিজের দেশে ফেরার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা জানান, তিনি ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরতে চান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশ্য ক্ষমতা দখল নয়, বরং দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
ন্যাশনিক্স/এলকে
