কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলা এলাকার সৌহার্দ হসপিটাল অ্যান্ড মেডি কমপ্লেক্সে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে অন্তঃসত্ত্বা নারী রীমা আক্তার ও তার গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১৫ জুন আদর্শ সদর উপজেলার শুভপুর এলাকার বাসিন্দা রীমা আক্তার গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. শান্তনা রানী পালের অধীনে হাসপাতালে ভর্তি হন। ওইদিন ডিউটিতে থাকা ডা. জুবায়ের হোসেনের দেওয়া একটি ইনজেকশনের পরপরই রীমার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনি ও তার অনাগত সন্তান দুজনেই মারা যান বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়ে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ওপর হামলা করেন, যাতে ডা. জুবায়ের হোসেন গুরুতর আহত হন। এর প্রতিবাদে শনিবার কুমিল্লা প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমপিএ) কুমিল্লা শাখা। মানববন্ধনে বিপিএমপিএ কুমিল্লা শাখার সভাপতি ডা. নজরুল ইসলাম শাহিন, সাধারণ সম্পাদক ডা. রাসেল আহমেদ চৌধুরী, ময়নামতি মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান রইস আব্দুর রব, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখা ড্যাবের সাবেক সভাপতি ডা. মিনহাজ তারেক, ডা. শফিকুর রহমানসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, চিকিৎসকরা নিরলসভাবে মানুষের জীবন বাঁচাতে কাজ করছেন, অথচ বারবার তাদের ওপর হামলা হচ্ছে। ডা. জুবায়েরের ওপর অমানবিক হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
অন্যদিকে একই দিন কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে পাল্টা মানববন্ধন করে রোগীর স্বজনরা। দুই সন্তান কোলে নিয়ে উপস্থিত রীমার স্বামী বিল্লাল হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ঘটনার দিন বিকেলেও তার স্ত্রী হেঁটে হাসপাতালের চারতলায় উঠেছিলেন। শুধু পরামর্শ নিতে গিয়েছিলেন, কিন্তু একটি ইনজেকশন দেওয়ার পরই সব শেষ হয়ে যায়। তিনি বলেন, চিকিৎসকের ভুলে স্ত্রী ও অনাগত সন্তানকে হারিয়েছি, এখন আমার দুই সন্তান কাকে মা বলে ডাকবে? আমি ন্যায়বিচার চাই।
তবে ডা. শান্তনা রানী পাল বলেন, প্রতিদিন অনেক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। কোনো রোগীর মৃত্যু হলে না জেনেই ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তোলা হয়। এ ঘটনায় তাদের কোনো ভুল ছিল না, তদন্ত করলে সত্য বেরিয়ে আসবে। কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ জানান, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। রোববার অভিযোগ জমা দেওয়ার কথা রয়েছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সব পক্ষ।
