বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় রিমন নামে এক কিশোর গুরুতর আহত হয়েছেন—এমন অভিযোগে করা একটি মামলার তদন্তে ঘটনার সত্যতা পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে জানা গেছে, কথিত ভুক্তভোগী রিমন ওই সময় ঢাকায় ছিলেন না; তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় অবস্থান করছিলেন।
২০২৪ সালের অক্টোবরে আদালতে দায়ের করা মামলায় রিমনের বাবা মো. মামুন অভিযোগ করেন, ৪ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ী এলাকায় তাঁর ছেলের ওপর হামলা চালানো হয়। এজাহারে বলা হয়, রিমনের শরীরে ৩৫ থেকে ৪০টি গুলি লাগে এবং ধারালো অস্ত্র ও রড দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য, পুলিশ কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাসহ মোট ৬৯ জনকে আসামি করা হয়।
তবে রিমন নিজেই দাবি করেছেন, ওই সময় তিনি ঢাকায় যাননি। বর্তমানে ১৭ বছর বয়সী রিমন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় একটি গাড়ির ওয়ার্কশপে কাজ করেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি নিজ এলাকাতেই ছিলেন এবং কোনো হামলার শিকার হননি। মামলার বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি।
রিমনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক যোগাযোগ নেই। ২০০৮ সালে বিদেশে যাওয়ার পর বাবা আলাদা সংসার শুরু করেন এবং এরপর থেকে তাদের খোঁজখবরও নেন না।
এ মামলায় অভিযুক্ত কয়েকজন দাবি করেছেন, মিথ্যা অভিযোগে তাদের হয়রানি করা হয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। মামলার এক আসামির পরিবার জানায়, কিছু লোক তাদের বাসায় গিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছিল। অন্য এক আসামি বলেন, নাম বাদ দেওয়ার জন্য তাকে টাকা খরচ করতে হয়েছে।
মামলার বাদী মো. মামুন বলেন, তিনি নিজে মামলা করেননি; অন্যের পরামর্শে এটি করা হয়েছে। আসামিদের কাউকেই তিনি চেনেন না বলেও দাবি করেন। প্রথমে তিনি স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নাম উল্লেখ করলেও পরে সেই বক্তব্য থেকে সরে আসেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ইসমাইল ভূঁইয়া তুহিন বলেন, রিমনের আহত হওয়ার ঘটনা সত্য এবং আওয়ামী লীগের ভয়ে এখন তা অস্বীকার করা হচ্ছে। তবে মামলায় ভুল আসামির নাম যুক্ত হওয়ার দায় তিনি আইনজীবীর ওপর চাপান।
অন্যদিকে মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া বলেন, বাদী ও তার সঙ্গে আসা ব্যক্তিরাই আসামিদের নাম-ঠিকানা দিয়েছেন। তিনি তদন্তকারী নন, তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার সুযোগ ছিল না।
মামলাটি তদন্ত করে পিবিআইয়ের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিশেষায়িত তদন্ত ও অভিযান শাখা। সংস্থাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানজিনা আক্তার জানান, সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
পিবিআই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আন্দোলনের সময় রিমন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার জয়নগর বাজার এলাকায় একটি দোকানে কাজ করতেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের লোকেশনও ওই সময় কসবাতেই ছিল। তদন্তে ঢাকায় তার অবস্থানের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
