খুলনায় সন্ত্রাসী আতঙ্কে ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

অবশ্যই পরুন

খুলনা অঞ্চলে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের অনেকেই এখনও গ্রেফতার না হওয়ায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ভোটের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জোরদার নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, তবুও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগরী ও আশপাশের এলাকায় একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। গত এক বছরে জেলায় ৫৮টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং অর্ধশতাধিক লাশ উদ্ধার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা ভোটের আগে জনমনে আতঙ্ক বাড়িয়েছে।

বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অভিযোগ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ভোটারদের মধ্যে অনিরাপত্তা কাজ করছে। তারা দাবি করেছেন, সহিংসতা, ভয়ভীতি ও সংখ্যালঘু ভোটারদের হুমকির মতো অভিযোগও সামনে আসছে। ফলে সুষ্ঠু ও ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে এবং পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও সেনাবাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আ.স.ম. জামশেদ খোন্দকার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে উন্নত এবং সব কেন্দ্রেই বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও র‍্যাব কর্মকর্তারাও জানান, অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উপকূলীয় এলাকাগুলোতে কোস্টগার্ড টহল জোরদার করেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বিশেষ নজরদারি চলছে।

তবে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মতে, ভোটের আগে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে যেতে সাহস পাবে না। তাই নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ন্যাশনিক্স/এপি

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ