রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নির্মম শিকার হয়ে বাগেরহাট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দামের পরিবারে নেমে এসেছে এক হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি। চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে একের পর এক রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা সাদ্দাম বারবার জামিন পেলেও নতুন মামলায় পুনরায় কারাবন্দি হচ্ছিলেন। এই দীর্ঘ অনিশ্চয়তা, সামাজিক চাপ ও মানসিক যন্ত্রণায় ভেঙে পড়ে তার স্ত্রী ও শিশু সন্তান আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো—জন্মের পর থেকে নিজের শিশু সন্তানকে কখনো কোলে নেওয়ার সুযোগই পাননি সাদ্দাম। সন্তানের মুখ দেখা তো দূরের কথা, বাবার পরিচয়ও শিশুটি পায়নি জীবদ্দশায়।
স্ত্রী ও শিশু সন্তানের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর শেষ বিদায় জানাতে সাদ্দাম প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ প্রশাসন সেই আবেদন নিষ্ঠুরভাবে প্রত্যাখ্যান করে। সম্প্রতি সাংবাদিক পান্নাকে দেওয়া এক ইন্টারভিউতে সাদ্দামের ভাই জানান,
“আমার ভাই তার মৃত শিশুকে একবার কোলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল। এমনকি পুলিশের সামনে পায়ে ধরে লুটিয়ে অনুনয় করেছিল। কিন্তু পুলিশ সুপার, জেল সুপার ও সংশ্লিষ্টরা একটুও মানবিক হননি।”
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, আদালত ও জেল কর্তৃপক্ষ সাদ্দামকে মাত্র দুই মিনিটের জন্য মৃতদেহ দেখার অনুমতি দেয়। সে সময় তার হাতে হাতকড়া, কোমরে দড়ি বাঁধা ছিল। ১০ মিনিট সময় দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।
এই ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষ বর্তমান ইউনুস সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেকেই বলছেন, এটি শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়—এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, একজন বন্দির ন্যূনতম মানবিক অধিকারও যদি রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে না পারে, তবে সেটি সভ্য রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক। রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে এভাবে একজন মানুষকে মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়া, তার পরিবারকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় আজ কাঁদছে পুরো দেশ। প্রশ্ন উঠছে—রাজনৈতিক প্রতিহিংসা আর কত জীবন কেড়ে নেবে?
আর কত বাবাকে সন্তানের লাশের সামনে দাঁড়িয়ে পায়ে ধরে কাঁদতে হবে, তবুও কি রাষ্ট্রের হৃদয় গলবে না?
