সাভারে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার ভবঘুরে মশিউর রহমান সম্রাট (ছদ্মনাম) পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। সে জানিয়েছে, কাউকে অনৈতিক যৌনাচারে লিপ্ত দেখলেই তাদের হত্যা করত। এসব হত্যাকে সে নিজের ভাষায় ‘থার্টি ফোর’ বা ‘সানডে মানডে ক্লোজ’ বলে উল্লেখ করত।
বাংলাদেশ পুলিশ জানায়, সম্রাট মানসিক রোগী নয়; তবে অতিরিক্ত মাদকাসক্তির কারণে সে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হত্যাই তার নেশায় পরিণত হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্রাট তার প্রকৃত নাম গোপন রেখে দীর্ঘদিন ভবঘুরের ছদ্মবেশে সাভার এলাকায় অবস্থান করছিল। দিনের বেলায় সে থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করলেও গভীর রাতে ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক ও পদচারী সেতু এলাকায় বিচরণ করত। সেখান থেকে বিভিন্ন ভবঘুরে নারী-পুরুষকে ফুসলিয়ে পৌর কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে যেত আর সেখানেই তারা হত্যার শিকার হতো।
পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই এক বৃদ্ধাকে হত্যার পর সম্রাট ওই পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারে স্থায়ীভাবে আশ্রয় নেয়। পরবর্তী পাঁচ মাসে সেখান থেকে একে একে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার হয়। নিয়মিত নজরদারি চললেও প্রমাণের অভাবে তাকে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছিল না।
সর্বশেষ নজরদারির সময় এক কিশোরীকে তার বিছানায় পাওয়া গেলে সন্দেহ জোরালো হয়। পরদিন রাতে ওই কিশোরীসহ দুজনকে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলে সম্রাট। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সম্রাট ৬টি হত্যার দায় স্বীকার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে এবং আরও অপরাধে তার সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
ন্যাশনিক্স/এলকে
