দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন আবারও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটই বর্তমানে অচল রয়েছে, ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির মোট তিনটি ইউনিটের মধ্যে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি আরও আগে, ২০২০ সালের নভেম্বর মাস থেকেই বন্ধ আছে।
সর্বশেষ গত ১৪ জানুয়ারি উৎপাদনে ফেরা ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটটি মাত্র চার দিন চালু থাকার পর রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সব ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, প্রথম ইউনিটের বয়লারের টিউব সম্পূর্ণ ফেটে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। প্রায় এক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার বয়লারটি ঠান্ডা না হলে মেরামত কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে কবে নাগাদ বিদ্যুৎ উৎপাদন আবার শুরু হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, প্রথম ইউনিটটি অনেক পুরনো এবং নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পরপর বড় ধরনের মেরামতের প্রয়োজন হলেও এটি প্রায় ২০ বছর ধরে চালু রয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পরিচালিত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লার ওপর নির্ভর করেই এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে থাকে।
এদিকে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত তৃতীয় ইউনিটটির যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। চীন থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পৌঁছালে আগামী মার্চ মাসে ইউনিটটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আনতে দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গড়িমসি করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ন্যাশনিক্স/এলকে
