জাতীয় নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক অনলাইন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে তিনি নিজেকে অবমূল্যায়িত মনে করছেন।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেও, দেশের নির্বাহী ক্ষমতা মূলত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে থাকে। তবে শেখ হাসিনা ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের আগস্টে দেশত্যাগ করার পর এবং সংসদ ভেঙে যাওয়ার ফলে সাহাবুদ্দিনই তখন রাষ্ট্রের শেষ কার্যকর সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে আলোচনায় আসেন।
৭৫ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তিনি জানান, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হলেও, সুযোগ মিললে তিনি দায়িত্ব ছাড়ার পক্ষেই।
সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস দীর্ঘ সময় ধরে তার সাথে কোনো বৈঠক করেননি। এমনকি প্রেস বিভাগের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের সব দূতাবাস ও হাইকমিশন থেকেও রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি নামিয়ে ফেলা হয়, যা তার মতে, দেশে ও বিদেশে ভুল বার্তা দেয় এবং ব্যক্তিগতভাবে তাকে অপমানিত করে।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে তিনি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে চিঠি পাঠালেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং কার্যত তাকে নীরব করে রাখা হয়েছে। ইউনূসের প্রেস টিমের কাছে এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাষ্ট্রপতি জানান, তিনি নিয়মিত সেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছেন এবং সেনাপ্রধান তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো পরিকল্পনা নেই। বাংলাদেশের ইতিহাসে সামরিক শাসনের নজির থাকলেও বর্তমান সেনাপ্রধান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারেই আগ্রহী বলে জানিয়েছেন।
সাহাবুদ্দিন বলেন, আন্দোলনের শুরুতে কিছু শিক্ষার্থী তার পদত্যাগ দাবি করলেও, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কোনো রাজনৈতিক দলই সেই দাবি তুলছে না। বিভিন্ন জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামী পরবর্তী নির্বাচনে এগিয়ে থাকতে পারে।
শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর তিনি তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন কি না এ প্রশ্নে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তিনি রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছেন।
সূত্র: রয়টার্স
