বিয়েবাড়িতে মাইক বাজানোর ঘটনায় পরিবারকে বেত্রাঘাতের অভিযোগ

অবশ্যই পরুন

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় বিয়েবাড়িতে সামান্য সময়ের জন্য মাইক বাজানোকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারকে বেত্রাঘাত এবং আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হয়েছে। স্থানীয় একটি অনানুষ্ঠানিক বিচারসভায় মধ্যযুগীয় ধাঁচে শাস্তি দেওয়ায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার দুপুরে বুড়িরচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটেছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের মেয়ের বিয়ে কয়েক মাস আগে সম্পন্ন হলেও আয়োজন করা হয়নি। বুধবার অনুষ্ঠানের দিনে আনন্দের অংশ হিসেবে তারা কিছু সময়ের জন্য মাইক ব্যবহার করেন। এ সময় এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি মাইক বাজানোর বিষয়ে জবাব চাইতে গেলে কথা কাটাকাটির সূত্রে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের নেতৃত্বে একটি সালিশ বসে, যেখানে পরিবারটির সকল পুরুষ সদস্যকে ১৫টি করে বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়া হয় এবং ৩০ হাজার টাকা জরিমানা নির্ধারণ করা হয়। জরিমানার অর্থ দিতে না পারায় মেয়ের জামাইয়ের উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম অটোরিকশাটিও আটক করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কনের বাবা শাহজাহান।

শাহজাহান বলেন, গরিব পরিবার হওয়ায় তারা বারবার ক্ষমা চাইলে সত্ত্বেও সালিশদাররা কর্ণপাত করেননি। আফছার, ছারোয়ার ও মালেক নামের কয়েকজন ব্যক্তি তাদের মারধর করেছে এবং পরে সালিশ বসিয়ে চরম অমানবিক শাস্তি কার্যকর করে। তিনি জানান, অনেকের কাছে সাহায্য চাইলেও কোনো সুরাহা পাননি।

সালিশে উপস্থিত আলাউদ্দিন মাঝি দাবি করেন, মাইক বাজানো নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হট্টগোলের সময় আফছারের প্রায় ৫০ হাজার টাকা নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। প্রমাণ না মিললেও ক্ষতিপূরণ হিসেবে সালিশে ৩০ হাজার টাকার রায় দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, নারী সদস্যদের বেত মারা হয়নি; তবে ঘরের কর্তা শাহজাহানকে নিজের পরিবারের নারীদের শাসনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের গ্রাম্য সালিশ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং দেশের আইনব্যবস্থার বিরুদ্ধে। ফৌজদারি অপরাধের বিচার করার ক্ষমতা কেবল আদালতের, গ্রাম্য সালিশের নয়। মানুষের স্বাধীনতা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এমন শাস্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে সাগরিয়া ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক এসআই ফরহাদ হোসেন জানান, বিয়েতে মাইক বাজানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। তিনি উভয়পক্ষকে আইনি ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেন। পরে সালিশ হওয়ায় তিনি সরে আসেন। ঘটনার বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

আরও নিবন্ধ

সর্বশেষ সংবাদ