দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর এবং ধর্মীয় সামগ্রী চুরির অভিযোগ সামনে এসেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবরের মধ্যে অন্তত ১৯টি মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এসব ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে ১৯টি ঘটনার সামগ্রিক সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিলেটের বালাগঞ্জে নবীনগর সার্বজনীন পূজামণ্ডপে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী ও কার্তিকের প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। ফরিদপুরের পুরাতন কালীবাড়ি মন্দির থেকে দক্ষিণা কালীর প্রতিমা, সোনার মুকুট ও অন্যান্য ধর্মীয় সামগ্রী চুরির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা ও ঝিনাইদহের শৈলকুপায় দুর্গাপ্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও বাগেরহাটের সুন্দরপুরে মন্দিরে প্রবেশ করে ধর্মীয় সামগ্রী ও অর্থ চুরির অভিযোগ রয়েছে। রাজবাড়ী ও টাঙ্গাইলেও পূজামণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা সামনে এসেছে। রাজবাড়ীর বানিবহ বাজার সার্বজনীন দুর্গামন্দির এবং টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের জামুর্কী পশ্চিমপাড়া মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে পৃথক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
এ ছাড়া বগুড়ার নন্দীগ্রাম, নেত্রকোনার কেন্দুয়া এবং পিরোজপুরের একটি সেবাশ্রমে প্রতিমা ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকার রমনা কালীমন্দির থেকে দেবীমূর্তির সোনার জিহ্বা চুরির দাবিও প্রতিবেদনে রয়েছে। এসব ঘটনার প্রতিটির বিস্তারিত তথ্য ও তদন্তের অগ্রগতি আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট ২ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের হুমকির অভিযোগ তুলে নিরাপত্তা জোরদার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায়।
উপাসনালয়ে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের মতো ঘটনা ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য উদ্বেগজনক। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে। তবে ঘটনাগুলোর সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।
ন্যাশনিক্স/এলকে
