দুদক জানিয়েছে অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার দুটি লকার থেকে মোট ৮৩২ ভরি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। এর একটি লকার শেখ হাসিনা ও সায়মা ওয়াজেদের নামে এবং অন্যটি শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার নামে খোলা ছিল। প্রথম লকার থেকে ৪২২ ভরির কিছু বেশি এবং দ্বিতীয়টি থেকে ৪১০ ভরি সোনা উদ্ধারের কথাই জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে পূবালী ব্যাংকে শেখ হাসিনার নামে থাকা আরেকটি লকারে একটি ছোট চটের ব্যাগ পাওয়া গেলেও সেটি খালি বলে প্রতিবেদন দিয়েছে দুদক।
তবে খবর প্রকাশের পর বিষয়টিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন সরকার পরিবর্তনের প্রায় দেড় বছর পর হঠাৎ করে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের নামে থাকা লকার নিয়ে এমন ‘চাঞ্চল্যকর’ তথ্য সামনে আসার উদ্দেশ্য কী? বিশেষ করে কড়াইল বস্তির ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরদিনই এই প্রতিবেদন সামনে আসায় অনেকে এটিকে সময়োপযোগী নয় বরং “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে মনে করছেন।
বস্তিতে আগুনের ঘটনাটি যে শুধু দুর্ঘটনা নয় বরং পরিকল্পিতভাবে লাগানো হতে পারে, এমন অভিযোগও উঠছে সামাজিক মাধ্যমের বহু আলোচনায়। অনেকের মতে, বস্তিবাসীকে সরিয়ে জায়গাটি কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কাছে তুলে দেওয়ার একটি গোপন তৎপরতা চলছিল, আর সেই ঘটনায় জনমতের চাপ অন্যদিকে ঘোরাতে হঠাৎ করে শেখ হাসিনার লকার থেকে সোনা উদ্ধারের গল্প সামনে আনা হয়েছে। অনেকে বলছেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা একজন নেত্রীর বিরুদ্ধে এতদিন এমন কিছু না উঠে আসা, অথচ দেড় বছর পর আকস্মিকভাবে বেরিয়ে আসা এটি বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না।
এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ডও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে শেখ হাসিনার নামে উদ্ধৃত করে বলা হচ্ছে “ব্যাংকের লকারে কোন স্বর্ণ আমার নাই। যেহেতু ওরা বলছে এগুলা আমার, তাহলে পুড়ে যাওয়া বস্তিবাসী কে এগুলা দিয়ে দেওয়া হোক” সমর্থকদের মধ্যে এটি আলোচিত হচ্ছে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে যেখানে নেত্রীর মানবিক অবস্থানকেই সামনে আনা হয়েছে।
পুরো ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক যত বাড়ছে, অনেকেই মনে করছেন এটি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ঘোলা করার আরেকটি প্রচেষ্টা হতে পারে। শেখ হাসিনার সমর্থকদের মতে, এ ধরনের খবরকে সতর্কভাবে দেখা উচিত এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রচার না করা উচিত, কারণ এটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত একটি সময় এবং বিভিন্ন মহল পরিস্থিতিকে নিজেদের মতো কাজে লাগাতে চাইতে পারে।
